অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং 

আপনি কি চাকরি করছেন? ব্যবসা করছেন? নাকি একজন হাউস ওয়াইফ? আপনি যাই হোন না কেন অর্থ ইনকাম করা আমার আপনার সবার অধিকার। আজকে আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব সেটি হচ্ছে আপনি যেই পেশাতেই জড়িত থাকেন না কেন, আপনার অবশিষ্ট সময় কে বাঁচিয়ে আপনি অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন ভাল মতো। যেটা হতে পারে আপনার একটি  আয়ের অতিরিক্ত উৎস।

সবগুলো মার্কেটিং মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং।অ্যাফিলিয়েট ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মার্কেটিং সেক্টর রয়েছে অনলাইনে কিন্তু তার মধ্যে অ্যাফিলিয়েট একটা জনপ্রিয় বলে সবার ধারনা।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে সাধারণত যা বোঝায় তা হলো- অন্যের প্রোডাক্ট বিক্রির মাধ্যমে কমিশন পাওয়া । 

Income from Affiliate marketing

আমাদের দেশে সাধারণত অনেকেই ব্যবসা শুরু করতে চায় নিজস্ব । কিন্তু পুজি না থাকার কারণে তা কখনোই হয়ে ওঠেনা।আর এই অ্যাফিলিয়েটের মাধ্যমে সে চাইলে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারে । কারণ সে অন্যের প্রডাক্ট বিক্রি করে নিজের একটি কাস্টমার  সার্কেল দার করাতে পারে যেখান থেকে সে তার নিজস্ব প্রোডাক্ট দিয়ে ভবিষ্যতে যে কোন ব্যবসা শুরু করতে পারবে। রিক্স এর পরিমাণ নেই বললেই চলে । দেশ বিদেশে বিভিন্ন ধরনের এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য বড় বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাকে যথেষ্ট দক্ষতা সম্পন্ন হয়ে তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করে নিজের কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে হবে।  বিভিন্ন ধরনের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অ্যামাজন, আলিবাবা, ইবে, ওয়ার্ল্ড মার্ট, আরো অনেক। 

আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে আপনাকে বিভিন্ন সেক্টর টার্গেট করতে হবে আপনার প্রোডাক্ট সেল এর জন্য । যেমন

  •  ফেসবুক
  •  ইনস্টাগ্রাম
  •  টুইটার
  •  লিংকডিন
  •  ইউটিউব
  •  কোয়ারা

ফেসবুক

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ সবচেয়ে বড়  প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ফেসবুক। আপনি ফেসবুকে আপনার একটি পেজের মাধ্যমে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন । এখানে আপনারা শুধুমাত্র প্রডাক্ট প্রমোশন এর কাজ করতে হবে বাকি সব ধরনের কাজই আপনি যেই প্রোডাক্ট  অ্যাফিলিয়েট করছেন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের তা করে দিবে। ফেসবুকে শুধুমাত্র আপনার একটা কাস্টমার সাইকেল অথবা বেস তৈরি করতে হবে যেখান থেকে আপনার পণ্য সেল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক থাকে।এক্ষেত্রে আপনাকে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আবার নিজেকেই তা স্লব করার মানসিকতা থাকতে হবে। কিন্তু অন্য সব মার্কেটিং এর তুলনায় ফেসবুক মার্কেটিং টা সবথেকে জনপ্রিয় বেশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য । আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে ফেসবুকে আপনার সর্বপ্রথম টার্গেট করতে হবে কাস্টমার তৈরি করার জন্য। 

 ইনস্টাগ্রাম

বর্তমান সময় সবথেকে জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে । এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্যে ইনস্টাগ্রামে টার্গেট করে থাকেন আপনার । মার্কেটিং জনপ্রিয়তা খুব অল্প সময়ে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে ।  বর্তমান সময়ে কমবেশি সবাই ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে থাকে। আপনি ইনস্টাগ্রামে আপনার ফলোয়ার বাড়াতে পারলে আপনি যখনই কোন পোস্ট করবেন সেখান আপনার রেসপন্স খুব ভাল আসবে এবং এর মাধ্যমে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।তাই ইন্সটাগ্রামকে টার্গেট করা আপনার খুব বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য।

 টুইটার

বর্তমানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে বড় বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি পর্যন্ত টুইটারে আনাগোনা থাকে । ঠিক তেমনি আবার মধ্য থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সবাই এখানেও তাদের সময় ব্যয় করে থাকে । আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান সেক্ষেত্রে টুইটার হতে পারে আপনার জনপ্রিয় একটি সাইট যেখান থেকে আপনি মার্কেটিং শুরু করতে পারবেন । আপনি আপনার মার্কেটিং সম্পর্কিত পোস্ট করবেন এবং ছোট করে নিজের সাইটের লিংক ওইখানে দিয়ে দিবেন এক্ষেত্রে  যে আপনার লিংকে ক্লিক করে প্রবেশ করবে এবং কোন কিছু কিনতে আগ্রহী হবে ওর মাধ্যমে তাহলে আপনি তার উপর কমিশন পাবেন । টুইটার মার্কেটিং হতে পারে বেশ জনপ্রিয় আপনার জন্য আফিলিয়েট করা। 

 লিংকডিন

এটি এমন একটি সাইট যেখানে কর্পোরেট লোকদের আনাগোনা সবথেকে বেশি হয় । আপনি এই সাইটে নিজের একাউন্ট খুলে, আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। আপনার উদ্দেশ্য একটাই মার্কেটিং সেক্টর উন্নত করা আপনার অ্যাফিলিয়েট সাইটে। তাই সব সময় আপনাকে মাথায় রেখে লিংকডইনে পোস্ট লিংকের মাধ্যমে কাস্টমার আপনার সাইটে প্রবেশ করে তা নিশ্চিত করা ।কারণ কমবেশি দিনের একটি ভাগের সবারই লিংকে প্রবেশ করতে হয় । যোগাযোগ রক্ষার্থে অথবা এটাকে সামাজিক যোগাযোগের বড় মাধ্যম ও বলা যেতে পারে বর্তমান সময়ে। তাই আপনি যদি আপনার মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে লিংক দিন হতে পারে আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর যেখান থেকে আপনি অনেক ভিজিটর বা কাস্টমার আপনার সাইটে প্রবেশ করাতে পারবেন। 

 ইউটিউব

বর্তমান সময়ের সবথেকে জনপ্রিয় একটি ভিডিও সাইট হলো ইউটিউব যেখান থেকে আপনি চাইলে দুনিয়া সবকিছুই দেখতে পারবেন ফ্রিতে । এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে দেখতে পারবেন দুনিয়া কোথায় কি ঘটে চলছে । ইউটিউব থেকে এর মাধ্যমে টাকা পেয়ে করা হয় জারা ইউটিউব এর সাথে জড়িত বা ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে টাকা পেয়ে থাকে । আপনি চাইলে সেই পথ তাকে কাজে লাগিয়ে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন ।বিভিন্ন প্রমোশনাল ভিডিও তৈরি করে আপনি লিংকের মাধ্যমে তাদের ওই সাইট থেকে কিছু কেনার আগ্রহ গড়ে তুলতে পারেন এবং যদি আপনার ওই লিঙ্কের মাধ্যমে কোন প্রোডাক্ট বা যাবতীয় সফটওয়্যার অন্য কিছু হয়ে থাকে তাহলে তার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে কমিশন প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে ইউটিউবে সবার প্রথম আপনাকে একটি  বড় সার্কেল তৈরি করতে হবে বা এককথায় ভক্ত বলা যেতে পারে যারা আপনার ওপর বিশ্বাস করে কোন প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহী হবে । তাই আপনি চাইলে এই ইউটিউব কে কাজে লাগিয়ে আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন ।

 কোয়ারা (Quora)

Quora হল জ্ঞান আহরণ ও শেয়ার করার স্থান।এখানে কোন প্রশ্ন সম্পর্কিত জিজ্ঞেস করা হলে তার উত্তর ও নিজে থেকেই দেওয়া যায় এটাই এখানে সব থেকে বড় একটি প্লাস পয়েন্ট । আপনি কোন কিছু সম্পর্কিত এখানে জিজ্ঞেস করে আপনি যখন সেটার উত্তর প্রদান করবেন সেখানে আপনি আপনার লিংকের রেফারেন্স দিয়ে দিতে পারেন । এক্ষেত্রে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর যখন নিজের দিয়ে দিবেন এবং প্রোডাক্ট এর লিংকটা নিচে দিয়ে দিবেন তখন যে কেউ এসে সেটার ওপর ক্লিক করে আপনার সাইটে চলে যেতে পারবে এবং পছন্দ হলে তা যখন কিনতে আগ্রহী হবে বা কিনে ফেলবে তার উপর একটি কমিশন আপনি পাবেন । এক্ষেত্রে আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য  সব থেকে ভাল একটি সাইট হতে পারে Quora।

আসসালামুআলাইকুম আশা করি সবাই ভালো আছেন ।আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ । 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *